ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় ছাত্রীকে যৌন নিপিড়ন: বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 23, 2025 ইং
শিক্ষার্থীদের মিছিল ছবির ক্যাপশন: শিক্ষার্থীদের মিছিল
ad728
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাওলানা গোলাম সাদিক নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন নিপিড়ীন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবী করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে।

রোববার (২৩ মার্চ) উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গাপুষ্কুরুনী আদর্শ বালিকা মহিলা মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
   
অভিযুক্ত মাওলানা গোলাম সাদিক ভাঙ্গাপুষ্কুরুনী আদর্শ বালিকা মহিলা মাদ্রাসার সহ সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন। 

এদিকে যৌন নিপিড়নের তদন্ত করায় বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে মাদ্রাসার সুপারকে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, গত ১৮ মার্চ মাদ্রাসার সহ-সুপার গোলাম সাদিক ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে কোচিং ক্লাসে দেরীতে আসার অযুহাতে যৌন নিপীড়ন করেন। বিষয়টি ১৯ মার্চ ওই ছাত্রী মাদ্রাসার সুপার মাওলানা জামাল উদ্দিন নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে সুপার অভিযুক্ত সহ-সুপারকে ডেকে এনে, যৌন নিপিড়নের ঘটনাটি জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে সুপারকে হুমকি দিয়ে অফিস কক্ষ ত্যাগ করেন।


শনিবার (২২ মার্চ) দুপুরে স্থানীয় ও রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসা অফিস কক্ষে এসে ডেকে নিয়ে সুপার জামাল উদ্দিনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন৷ পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সহ সুপার গোলাম সাদিকের বিচার দাবিতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। এনিয়ে সহ-সুপারের যৌন নিপিড়নের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। রোববার অভিযুক্ত সহ সুপারের বিচার ও পদত্যাগী সুপার জামাল উদ্দিনের পূর্ণবাহলের দাবিতে মাদ্রাসার ছাত্রীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন।


মানবন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাসে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে সাদিক হুজুর আমাদের শরীর স্পর্শকাতরস্থানে হাত দিতো, আমরা বাঁধা প্রধান করলে নানান অযুহাত ধরে তিনি আমাদের বেত্রাঘাত করতেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহ সুপার মাওলানা গোলাম সাদিক বলেন, ছাত্রীদের যৌন নিপিড়ীনের কথাটি সঠিক নয়। ৯ম শ্রেণির যে শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে তাকে প্রহর করেছি, যৌন নিপিড়ীন নয়। সুপার পদত্যাগের বিষয়ে আমার কোন হাত নেই।    

মাদ্রাসা সুপার মাওলানা জামাল উদ্দিন বলেন, আমার কাছে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী সহ সুপার গোলাম ছাদিকের বিরুদ্ধে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ করেছেন। আমি বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের ব্যবস্থা করলে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে আমাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন। যদি আমি পদত্যাগ না করি, তারা আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেন। পরে বাধ্য হয়ে লিখিত পদত্যাগ করি। রোববার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামাল হোসেনকে আমি বিষয়টি লিখিত ভাবে অবগত করি।  

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, যৌন নিপিড়ীনের সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম মির হোসেন বলেন, সহ সুপার গোলাম সাদিকের বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যৌনিপীড়নের একটি অভিযোগ আমি পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামাল হোসেন বলেন, বিকেলে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা জামাল উদ্দিনের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স